যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি। শান্তিচুক্তি না হলে ফের পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব। উত্তেজনা চরমে ওঠার আগেই মার্কিন অবরোধের মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে দুই দেশ।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আপনাদের ওখানেই (ইসলামাবাদ) থাকা উচিত। কারণ আগামী দুই দিনে সেখানে কিছু ঘটতে পারে। আমরা সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।”

তিনি এ কথা বলেন যখন মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। এর ফলে ২১ এপ্রিল শেষ হতে চলা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পাকিস্তানের ভূমিকা

ইরান এখনও ট্রাম্পের এ মন্তব্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, উপসাগরীয় দেশ, পাকিস্তান ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধি দল আবার পাকিস্তানে ফিরতে পারে। তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ পুনরায় শুরু হতে পারে এবং “আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে”।

প্রথম দফা আলোচনা: ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক

এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ অন্যদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়। বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে?

সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনায়ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রথম দফায় ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’-এ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভ্যান্স, আর ইরানের পক্ষে স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকতে পারেন। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই কুশনার কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ তিন উপদেষ্টার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গুতেরেস বলেন, “সারাবিশ্বে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন পদদলিত করা হচ্ছে। শক্তি প্রয়োগের নিয়ম উপেক্ষা করা হচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। জোরালো সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে এবং যেকোনো যুদ্ধবিরতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।”

লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা: ওয়াশিংটনে মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতা

এদিকে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধি দল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তাদের বৈঠক হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এতে মধ্যস্থতা করবেন।

গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালালে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হয়। এতে লেবাননে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং দশ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

তবে শান্তি আলোচনায় চুক্তির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। হিজবুল্লাহ এ আলোচনাকে ‘নিরর্থক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন করে। হিজবুল্লাহ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আপডেট: পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। নতুন কোনো উন্নয়ন হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে জানাব।

(সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, রয়টার্স, সিএনএন, জাতিসংঘ)