Home আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির হাওয়া: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির হাওয়া: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

17
0
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ডি.সি. বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

এক নাটকীয় মোড় পরিবর্তনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের হাত থেকে আপাতত রক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম সময়সীমা (ডেডলাইন) শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দুই দেশ দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।

চুক্তির মূল শর্তাবলি

এই সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ কোনো অবকাঠামোতে হামলা চালাবে না। বিনিময়ে তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

ইরান এই শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে একটি ‘১০ দফা প্রস্তাব’ পেশ করেছে, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও ইরানের প্রতিরোধ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার (৬ এপ্রিল) হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবার রাত ১২টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ৪ ঘণ্টার এক বিধ্বংসী অভিযানে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরান দেশজুড়ে প্রতিরোধের ডাক দেয় এবং সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সামনে মানববন্ধন শুরু করে। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছিল।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া

এই পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কাজ করেছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে:

  • শেয়ার বাজার: টোকিও’র নিক্কেই সূচক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
  • জ্বালানি তেল: যুদ্ধের আশঙ্কায় বাড়তে থাকা তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
  • বিশ্ব নেতৃবৃন্দ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “স্বস্তির মুহূর্ত” এবং পোপ লিও চতুর্দশ একে “কূটনীতির বিজয়” হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

যদিও এই যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে পেরেছে, তবে বিশ্লেষকরা একে ‘ভঙ্গুর শান্তি’ বলে মনে করছেন। আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসবেন। আপাতত পুরো বিশ্ব এক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা নিয়ে তাকিয়ে আছে সেই বৈঠকের দিকে।