জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে তাকে ঢাকার আদালতে তোলা হবে বলে ডিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি জনসমক্ষ থেকে আড়ালে ছিলেন। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও রহস্যের অবসান ঘটিয়ে আজ ভোরে ডিবি পুলিশ সেই গোপন আস্তানা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ডিবির বক্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে রংপুরের স্বর্ণশ্রমিক হত্যা মামলা ছাড়াও উত্তরা ও বনানী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার যেকোনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আলোচিত হত্যা মামলা ও অভিযোগ
শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি হলো রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) হত্যা মামলা।
- মামলার প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুরের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার।
- অভিযোগ: সিট বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে মুসলিম উদ্দিন নিহত হন। আসামিদের চাপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল পরিবার।
- এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও আরও ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে টানা চার মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের রাতে তিনি সংসদ ভবনের একটি গোপন কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে নিরাপদ স্থানে সরে যান। অবশেষে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
সাবেক এই শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীর গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।







