ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। এই হামলায় শহরের প্রায় ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরান পৌর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি।
ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র
মুখপাত্র আব্দুলমোহর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। কোনো কোনো বাড়িতে সামান্য কাঁচ, দরজা বা জানালা মেরামতের প্রয়োজন হলেও, অনেক বাড়ি এখন সম্পূর্ণ বসবাসের অযোগ্য। তিনি বলেন, “বিপুল সংখ্যক বাড়িতে বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ বা সম্পূর্ণ সংস্কারের দরকার হতে পারে। আমরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছি।”
বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার
হামলার তীব্রতায় ঘরবাড়ি অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী:
- ১ হাজার ৮৬৯টি পরিবার হামলার পর নিজেদের উদ্যোগে অন্যত্র চলে গেছেন।
- ১ হাজার ২৪াসটি পরিবারকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৩টি আবাসিক কমপ্লেক্সে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুনর্নির্মাণ ও সরকারি উদ্যোগ
মুখপাত্র আরও জানান, জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং ঘরবাড়ি দ্রুত বসবাসের উপযোগী করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগ ও বিশেষ আর্থিক সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি বাড়িতে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বিশাল এই ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ নাগরিকদের আবাসিক এলাকায় এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই মানবিক বিপর্যয় ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও জটিল করে তুলবে।







