মার্কিন ঘাঁটি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে শুরু হয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) ‘সত্য-প্রতিশ্রুতি-৪’ শীর্ষক প্রতিশোধমূলক অভিযানের ৮৬তম পর্ব

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে চালানো এই সিরিজ হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি

আইআরজিসি-র এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো এই পর্যায়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানায় পরিণত হয়েছে। হামলার শিকার উল্লেখযোগ্য ঘাঁটিগুলো হলো:

  • ভিক্টোরিয়া, আরিফজান, আযযাফার ও আলখারাজ বিমান ঘাঁটি।
  • মার্কিন পঞ্চম নৌ-বহরের মূল ঘাঁটি।
  • ইসরায়েলের তেলআবিব, আরাদ ও নেগেব অঞ্চল।
  • ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনাদের গোপন আস্তানা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরাকের ইরবিলে অবস্থানরত বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দি ‘কোমলে’ দলের আস্তানাগুলোতেও নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে ড্রোনগুলো।

শহীদদের স্মরণে এই অভিযান

আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘সত্য-প্রতিশ্রুতি-৪’-এর এই পর্বের হামলাগুলো উৎসর্গ করা হয়েছে পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) আট বছরে শহীদ হওয়া ইরানি খ্রিষ্টান যোদ্ধাদের স্মরণে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই হামলা কয়েকটি পর্যায়ে অব্যাহত রাখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

যুদ্ধের নতুন সমীকরণ

বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক ডজন পর্বে বিভক্ত এই দীর্ঘমেয়াদী ‘সত্য-প্রতিশ্রুতি’ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আধিপত্যের মূলে বড় ধরনের আঘাত দিচ্ছে। একের পর এক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে তেলআবিব ও মার্কিন নৌ-ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানার বিষয়টি এই অঞ্চলে যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

সূত্র:পার্সটুডে