বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে হঠাৎ করেই ট্রাভেল পাসের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রথম এই মন্তব্য করেন যে, তারেক রহমান চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য: মঙ্গলবার দুপুরেও তিনি বলেছেন, “উনি (তারেক রহমান) এখনও ট্রাভেল পাস চাননি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানের ঢাকা আসার বিষয়ে কিছু জানে না। তবে চাওয়া মাত্র ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে।
পাসপোর্ট বনাম ট্রাভেল পাস: কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা
সাধারণ মানুষ মনে করছে, বাংলাদেশের একজন নাগরিক দেশে আসতে চাইলে তাকে পাসপোর্ট নিতে হয়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান পাসপোর্ট পাবেন, এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু পাসপোর্টের পরিবর্তে তাকে ওয়ানওয়ে ট্রাভেল পাস দিতে চাওয়ার কারণে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে একটা ‘অনিশ্চয়তা’ দেখা দিয়েছে। ট্রাভেল পাস সাধারণত পাসপোর্টবিহীন নাগরিকদের দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজন হয়। এর মানে হলো, তারেক রহমান হয়তো এখনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাননি বা নেননি—এই ইঙ্গিত দিচ্ছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য।
- প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৫ মাস পরে এসে কেন পাসপোর্টের পরিবর্তে ট্রাভেল পাসের প্রসঙ্গ আসছে?
- ট্রাভেল পাসের সমস্যা: লন্ডন বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমান ওয়ানওয়ে ট্রাভেল পাস নিয়ে ফিরতে চান না। এর অর্থ হলো, এই পাস নিয়ে দেশে গেলে তার পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। ফলে তার দেশে আসা-না আসা পুরোটাই সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
বিএনপি এবং বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করেও কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে লন্ডনস্থ বিএনপি নেতা ও বিশ্লেষকরা সরকারের এই পদক্ষেপকে রহস্যজনক মনে করছেন।
- লন্ডনস্থ বিএনপি নেতা: বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত লন্ডনের একাধিক নেতা মনে করছেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তারেক রহমানকে পাসপোর্ট দিতে পারে। ট্রাভেল পাসের বিষয়টি সামনে আনায় তারা ‘একটা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি‘ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর জটিলতার ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে বলেছেন।
- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ: তিনি বলেছেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হয়তো সদিচ্ছা প্রকাশ করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, “ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট- কোনো কিছু নিয়েই সমস্যা হবে না। কারণ এক্ষেত্রে সরকারেরও সদিচ্ছা আছে।” তবে তারেক রহমানের পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়ে তিনি ‘জানা নেই’ বলে জানিয়েছেন।
- ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ (লন্ডন): তিনি ইনকিলাবকে বলেন, তারেক রহমানের দেশে না যাওয়ার আসল কারণ তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। তিনি মনে করেন, পাসপোর্ট নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা সবই গুজব। সরকার যেকোনো মুহূর্তে তাকে পাসপোর্ট দিতে পারে। ট্রাভেল পাসের বিষয়টি সামনে আনা রহস্যজনক। তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো কোথাও একটা নীরব ‘বাধা‘র সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে, যেটা সরকার প্রকাশ করছে না।”
দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার শুরু
গত শনিবার তারেক রহমান তার দেশে ফেরার বিষয়ে “সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়” বলে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তার দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ট্রাভেল পাসের বিষয়টি সামনে আনেন।
- কূটনৈতিক সূত্র: লন্ডনের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, হাসিনা সরকারের আমলেই তারেক রহমান তার পাসপোর্ট রিনিউ করার আবেদন করেছিলেন। তাই এখন পাসপোর্ট ইস্যু করতে সময় লাগার কথা নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ট্রাভেল পাসের কথা বলাটা রহস্যজনক।
- সরকারের দাবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকালে দাবি করেছেন, তারেক রহমানকে যেকোনো উপায়ে দেশে ফেরাতে সরকার আন্তরিক এবং বদ্ধপরিকর। তবে তিনি ‘জটিলতা কোথায়’ তা জানেন না।
পরবর্তী পদক্ষেপ
তারেক রহমানের দেশে ফেরা কি পাসপোর্ট জটিলতা নাকি অন্য কোনো ‘নীরব বাধা’র কারণে অনিশ্চিত, তা নিয়ে সরকারকেই আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সূত্রঃ ইনকিলাব







