রাজধানীতে সাপের আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাম-গঞ্জ ছেড়ে এখন রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক বিষধর সাপের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এক নতুন প্রাকৃতিক সংকট।

রাসেল’স ভাইপার, শঙ্খ গোখরা ও খোয়া গোখরার মতো মারাত্মক সাপ এখন বহুতল ভবনের ছাদ, গাড়ির পার্কিং স্পেস এবং এমনকি ঘরের ভেতরেও হানা দিচ্ছে। সাপের আতঙ্কে মানুষ।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত: আতঙ্কিত এলাকাবাসী

রাজধানীর উত্তরা, কাফরুল, বনশ্রী, মিরপুর, খিলগাঁও ও মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকাগুলোতে সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রায়শই বিশাল আকৃতির সাপ দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে গোখরার সংখ্যাই বেশি।

  • খিলগাঁওয়ের ঘটনা: একটি বাড়ির মেঝে ভেঙে দুটি প্রাপ্তবয়স্ক গোখরা, সাতটি বাচ্চা ও ১৮টি সাপ উদ্ধার করা হয়। ভয়ে ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে পালিয়েছেন। এক বাসিন্দা জানান, তারা একসঙ্গে দুটি কালো গোখরা দেখেছেন।
  • উত্তরায় রেকর্ড: উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক আবাসন প্রকল্প থেকে একটি বাসা থেকে ডিমসহ ২৭টি সাপ উদ্ধারের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে।
  • উঁচু ভবনে প্রবেশ: সাপ কেবল নিচতলায় নয়, ৯/১০ তলা ভবনের ছাদেও উঠে যাচ্ছে। গাড়ির পার্কিংয়ে গোখরা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান, “গত চার মাসে শুধু ঢাকা সিটি থেকেই ৩৫২টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার প্রায় সবই পদ্মগোখরা বা রাসেল’স ভাইপার। যেসব উঁচু ভবন থেকে সাপ উদ্ধার হচ্ছে, তার আশেপাশে গাছ থাকায়, সম্ভবত সেই গাছ বেয়েই সাপ উপরে উঠছে।” তিনি আরও জানান, সবচেয়ে বেশি সাপ উদ্ধার হয়েছে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর থেকে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ: কেন এমন হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  1. আশ্রয় সন্ধান: বর্ষাকালে গর্তে পানি ঢুকে যাওয়ায় সাপেরা শুকনো আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের বাসাবাড়িতে প্রবেশ করছে।
  2. প্রজননকাল: আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সাপের প্রজননকাল হওয়ায় এই সময়ে এদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে।

নাগরিকদের জন্য জরুরি করণীয়

সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • যোগাযোগ: অবিলম্বে বন বিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট বা বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সুরক্ষা ব্যবস্থা:

  • বাড়ির চারপাশ ও লাগোয়া এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, যেন সাপ লুকিয়ে থাকার সুযোগ না পায়।
  • পোকামাকড় ও ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস ব্যবহার করুন, কারণ ছোট প্রাণী সাপের প্রধান খাদ্য।

সাপে কাটলে করণীয়: যদি কেউ সাপের কামড়ের শিকার হন, তবে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব সরকারি হাসপাতালে রাসেল’স ভাইপারসহ অন্যান্য বিষধর সাপের কামড়ের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম নিশ্চিত করেছে।

এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনসচেতনতা জরুরি।

–নিউজ ডেস্ক/ইনিউজ আপ