প্রধানমন্ত্রীর জনসভা
ছবিঃ সময় টিভি
প্রায় আড়াই বছর পর জনসমাবেশ শুরু করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে কর্মসূচির ১০ দিন পর আজ রবিবার চট্টগ্রামে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দেখতে ও তার বক্তব্য শুনতে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সব সড়কের স্রোত পলোগ্রাউন্ড মাঠে মিলতে শুরু করেছে। সকাল থেকে মাঠে প্রবেশ করা মানুষের পদভারে এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি মাঠ ভরে গেছে। অন্তত দুই লাখ মানুষ এখন সমাবেশস্থলে অবস্থান করছে। এ ছাড়া নানাপথ ধরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী স্রোতের মতোই আসছেন মাঠের দিকে।

বেলা সোয়া ১২টায় জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বক্তব্য দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী জনসভার কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বক্তব্যের পর নেতারা বক্তব্য রাখছেন।

পলোগ্রাউন্ড মাঠে ‘নৌকা মঞ্চে’ ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন উপস্থিত হয়েছেন। মঞ্চের সামনে কিছুটা ফাঁকা রাখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। এরপর পুরো মাঠ হয়ে উঠেছে জনসমুদ্র। আওয়ামী লীগ নেতারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে এ জনসভায়। সেই কথারই যেন বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত। দুপুরের পর মাঠে আর প্রবেশ করা যাবে না।

১০ বছর আগে ২০১২ সালে এই মাঠেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তিনি। ওই সময় বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ হাতে নিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর চট্টগ্রামে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। বলা চলে, চট্টগ্রামে আশানুরূপ উন্নয়ন করেছেন তিনি। এবার তিনি আসছেন নতুন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিতে। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বানও জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের জনসভা মঞ্চের পাশেই বেশ কিছু ফলক স্থাপন করা হয়েছে। ৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা
ছবিঃ সংগৃহীত

অবশ্য সকাল সাড়ে ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ভাটিয়ারিতে মেলিটারি একাডেমিতে ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ওই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন। সকালের কর্মসূচি শেষ করে বিকালে কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা আড়াইটার মধ্যেই পলোগ্রাউন্ড জনসভাস্থলে উপস্থিত হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য শুরু হতে পারে বিকাল তিনটায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে চট্টগ্রাম এখন উৎসবের নগরী। সকাল থেকে পুরো নগরীতে যানবাহন চলাচল খুবই কম। কর্মজীবী এবং পরীক্ষার্থীরা কিছুটা দুর্ভোগেও পড়েন। কিন্তু বেশির ভাগ যানবাহনই পলোগ্রাউন্ডমুখী।

সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা উৎসবের আমেজে মাঠে হাজির হতে থাকেন। সকাল সাড়ে সাতটায় মিছিল ও বাদ্য বাজনা বাজিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসা শুরু করেন। মহানগরীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে আলাদা আলাদা মিছিল ঢুকতে দেখা গেছে। এ সময় পৃথক মিছিলে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে তাদের ছবিও যুক্ত করে লাল, সাদা, হলুদ ও নীল টি-শার্ট পরেছেন নেতাকর্মীরা।

সকাল সাড়ে ৯টায় পলোগ্রাউন্ডে প্রবেশ পথের দক্ষিণ পাশে লাল টি-শাট ও টুপি পরা হাজার হাজার নেতাকর্মীদের শোডাউন করতে দেখা যায়। পরক্ষণেই শোডাউনের সামনে দেখা যায়, জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী। ওনার পেছনে ছয়-সাত হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। তারা মুখে স্লোগান ছিল- ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব লও লও লও সালাম’ প্রধানমন্ত্রী আসছেন বীর চট্টলা জাগছে’, ‘চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ ‘পটিয়াবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’। এসব স্লোগান দিতে দিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভাস্থলে ঢুকতে দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা
ছবিঃ সংগৃহীত

পরক্ষণেই পলোগ্রাউন্ডে প্রবেশপথের সিআরবির পাশ্ববর্তী সড়ক দিয়ে সাদা টি-শার্টের সঙ্গে মাথায় লাল-সবুজের টুপি পরিহিত হাজার হাজার লোকের শোডাউন। হাজার হাজার লোকের সামনে একটি গাড়িকে নৌকা সাজিয়ে জনসভাস্থলে আনা হচ্ছে। শোডাউনের সামনেই ছিলেন রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। ৩০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী নিয়ে রাউজানের সাংসদ পলোগ্রাউন্ড মাঠে ঢুকেছেন। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেক লোকজন কৌতুহল করে শোডাউনে থাকা কয়েকজন জিজ্ঞেস করেছে ‘ভাই রাউজানে আর লোক আছে’? তখন উত্তরে বলেন ‘ভাই পেছনে আরো অনেক আছে, দেখতে থাকেন।’

পরবর্তীতে মাথায় লাল টুপি পরিহিতদের আরেকটি মিছিল সভাস্থলে ঢুকছিল। মিছিলটি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের। অনেকের গায়ে লাল-নীল টি-শার্ট। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত টি-শার্টে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর ছবিও দেখা যায়। দীর্ঘ এই মিছিলটিও স্লোগানে স্লোগানে বেশ মুখরিত করে গোটা এলাকা।

এদিকে, স্টেডিয়াম রোড হয়ে সিআরবি হয়ে জনসভাস্থলের দিকে যাচ্ছিল হলুদ টি-শার্ট পরিহিত একটি শোডাউন চোখে পড়ে। শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত হলুদ টি-শার্টের পেছনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের ছবি দেখা যায়। বাদ্য বাজনা বাজিয়ে শোডাউনটির গন্তব্যও পলোগ্রাউন্ড। একইভাবে মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে শোডাউন ও মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে ঢুকতে দেখা গেছে। তখন জনসভাস্থলের আশপাশের মাইকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান বাজছিল।

বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে ভরপুর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ শরবত বিতরণ করছেন, কেউ পানি।

সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ