দক্ষিণ কোরিয়ায় হ্যালোইন উৎসবে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগই নারী ও তরুণ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক মানুষ।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানী সিউলে ওই উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য একটা সরু রাস্তা দিয়ে প্রচুর দর্শণার্থী ঢুকে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিউলের ইথেওনের ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে দেশটির সংবাদসংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টায় যখন হ্যামিলটন হোটেলের কাছে একটি সরু গলিতে প্রচুর মানুষ ঢুকে পড়ে, তখনই পদদলনের ঘটনা ঘটে।
সিউলের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা চোই সুং–বিওম রবিবার সকালে বলেছেন, হ্যালোইনের অনুষ্ঠানের সময় পদদলনে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, হতাহতের বেশিরভাগই নারী ও তরুণ, যাদের বয়স ২০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। ইয়োনহাপ জানায়, নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদেশিও আছেন।
খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পদদলনের ঘটনার আগে সেখানে বিশৃঙ্খল দৃ্শ্য দেখা যায়। মাঝে মাঝে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। ওই সরু গলিতে চাপা থেকে টেনে নেয়ার আগে কেউ কেউ এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে ছিলেন।
২১ বছর বয়সী মুন জু-ইয়ং রয়টার্সকে বলেন, ঘটনা ঘটার আগে ওই গলিতে সমস্যার স্পষ্ট লক্ষণ ছিল। সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ১০ গুণ বেশি ভিড় ছিল।
করোনা মহামারি শুরুর পর সিউলে তিন বছর পর এবার প্রথম হ্যালোইন উৎসব হচ্ছে। তাই এবার উৎসাহ-উদ্দীপনা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। এ পার্টিতে অনেকেই মুখোশ ও হ্যালোইনের পোশাক পরেছিলেন।
‘মৃত আত্মাদের স্মরণে’ প্রতিবছর অক্টোবরের শেষে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে হ্যালোইন উৎসব হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় হ্যালোইন উৎসব উদ্যাপনকারীদের কাছে সিউলের ইথেওন এলাকা খুবই আকর্ষণীয় জায়গা। শনিবার রাতে ওই এলাকায় লাখখানেক মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। পদদলনের ঘটনার আগে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সেখানে অতিরিক্ত ভিড়ের কথা উল্লেখ করেন। জায়গাটি নিরাপদ নেই বলেও উল্লেখ করেন কেউ কেউ।
দুর্ঘটনাস্থলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর ব্যাগে করে মরদেহ রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে আহত ব্যক্তিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। রাস্তায় একজন আরেকজনের ওপর পড়ে আছেন, তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সিউল মেট্রোপলিটন সরকার ঘটনার পর সবাইকে দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে জরুরি বার্তা প্রচার করছে। তাদের কাছে খবর আসছে যে তখন পর্যন্ত ২৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল এ ঘটনার পর জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ও তার স্ত্রী। ঘোষণা করেছেন জাতীয় শোক।
এর আগে দেশটিতে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালে। ফেরি দুর্ঘটনায় তখন ৩০৪ জন মারা গিয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই স্কুল শিক্ষার্থী।
সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ










