Home বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু সংসদে উত্থাপন; যাচাই-বাছাইয়ে থাকছে ১৬টি

অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু সংসদে উত্থাপন; যাচাই-বাছাইয়ে থাকছে ১৬টি

32
0
জাতীয় সংসদ
ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে ১৫টি সংশোধিত আকারে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই রিপোর্ট পেশ করেন ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন

বিশেষ কমিটির সুপারিশ ও বিভাজন

বিশেষ কমিটির পেশ করা রিপোর্টে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ১. হুবহু উত্থাপন: ৯৮টি অধ্যাদেশ। ২. সংশোধিত আকারে: ১৫টি অধ্যাদেশ। ৩. পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই: ১৬টি অধ্যাদেশ (এগুলো এখনই বিল আকারে আসছে না)। ৪. রহিতকরণ ও হেফাজত: ৪টি অধ্যাদেশ (অবিলম্বের বাতিলের সুপারিশ)।

গুরুত্বপূর্ণ যে ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই আসছে না

কমিটি ১৬টি স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫।
  • গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫।
  • দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫।
  • জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫।
  • রাজস্ব নীতি ও কাস্টমস সংক্রান্ত অধ্যাদেশসমূহ।
  • তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।
  • মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬।

বাতিল ও রহিতকরণের সুপারিশে ৪ অধ্যাদেশ

পৌরসভা ও সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান), সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং এর সংশোধন অধ্যাদেশ।

বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’

১৩৩টির মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমানে উত্থাপিত না হওয়ায় কমিটির ৩ জন সদস্য ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন। তারা হলেন—সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।

বিশেষ কমিটির সদস্যবৃন্দ

জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আরও রয়েছেন—মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, মাহবুব উদ্দিন, আব্দুল বারী, নওশাদ জমির, ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।

সংসদে এই রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এখন অধ্যাদেশগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। বিশেষ করে ‘গণভোট’ ও ‘গুম প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত আইনগুলো আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।