Home দুর্ঘটনা রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

284
0
কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন

রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তিতে গত মঙ্গলবার বিকেলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার ফলে কয়েক শত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

শেষ আশ্রয়স্থল কড়াইল বস্তি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

আগুন নেভাতে ২০ ইউনিট, ভিড়-জলে সমস্যা

  • মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়।
  • তীব্র যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিটগুলোর প্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগে যায়।
  • প্রথমে ৭টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

আগুনের তীব্রতার কারণে দমকল কর্মীদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়। এর মূল কারণ ছিল:

  • চারদিকে উৎসুক মানুষের ভিড় এবং বস্তির ভেতরে রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি প্রবেশে বাধা।
  • পানির তীব্র সংকট থাকায় পাশের ছোট খাল থেকে মেশিন দিয়ে পানি তুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়।
  • রাত ১০টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি
  • ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত আগুনের উৎপত্তি কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ জানাতে পারেনি।
  • তবে, এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

হারানো সব স্বপ্ন: স্বজনদের আহাজারি

বস্তিতে বসবাসরত বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর ও শ্রমজীবী। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এখানে বসবাস করতেন। আগুনের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, অনেকে ঘর থেকে কোনো কিছুই বের করতে পারেননি

  • জসীম নামের একজন জানান, তিনি শুধু নিজের জানটা নিয়ে বেরিয়েছেন, ঘরে তালা দেওয়া থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কোনো কাগজপত্রও বের করা সম্ভব হয়নি।
  • আগুনে সব হারিয়ে লাভলী বেগম নামে এক নারী আক্ষেপ করে বলেন, সাত বছর ধরে অনেক কষ্টে তিল তিল করে কেনা টিভি, ফ্রিজসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং তাকে এখনো সেগুলোর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে।
  • পোশাক কারখানায় কর্মরত লাকি আক্তার জানান, ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর শুনে তিনি এখন কীভাবে কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
  • ঘটনাস্থলে অনেকে তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন এবং অনেকে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বস্তির বাসিন্দাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

উল্লেখ্য: চলতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি, গত বছরের ২৪শে মার্চ১৮ই ডিসেম্বরেও এই কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। প্রায় ৯০ একর জায়গার ওপর এই বস্তিতে ১০ হাজারের মতো ঘর রয়েছে।