হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে, বন্দুকধারীর গুলিতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
লাহোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান খান জানিয়েছেন,‘আমাকে হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে তা আমি আগে থেকেই জানতাম ।’
তার পায়ে চারটি গুলি লেগেছিল। হামলার সময় দুইজন বন্দুকধারী ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। এছাড়া সুস্থ হওয়া মাত্রই আবারও রাজপথে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। লাহোরের শওকত খানম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান বলেন, ‘আমি আগে থেকেই জানতাম, ওয়াজিরাবাদ থেকে গুজরাটের মধ্যে কোথাও আমাকে হত্যা পরিকল্পনা হচ্ছে।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইমরান খানের ডান পায়ের প্রধান ধমনীর কারছে গুলি লেগেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদ এলাকার একটি সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হন ইমরান। গ্রেপ্তার বন্দুকধারী জানিয়েছেন ইমরান খানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়েছিলেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে ইমরান খান বলেন, ‘সুস্থ হওয়া মাত্রই আমি আবার রাজপথে ফিরব। এবার আমি ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ডাক দিব। পাকিস্তান দাসত্ব করার জন্য তৈরি হয়নি।’
এসময় নিজেদের স্বাধীনতার বিষয়ে জনগণকে আপোস না করারও আহ্বান জানান ইমরান। একই সঙ্গে তাকে হত্যা চেষ্টায় জড়িত অভিযোগ তুলে তিন জনের পদত্যাগেরও দাবি জানান।
এই তিনজন হলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও মেজর জেনারেল ফয়সাল।
হস্পতিবার পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে পৌঁছে ইমরান খানের লংমার্চ। সেখানকার আল্লাহু চক নামক স্থানে পৌঁছে ভাষণ দেওয়ার কথা ইমরান খানের। একটি পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা মঞ্চে ওঠেন ইমরান খান ও দলটির শীর্ষ নেতারা। ভাষণ শুরুর আগ মুহূর্তে এক ব্যক্তি ইমরান খানকে লক্ষ্য করে গুলি শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গে ইমরান খানসহ ভ্যানে থাকা সবাই বসে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ভ্যান থেকে নামিয়ে একটি কালো জিপে তোলার সময় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়ছেন ইমরান খান।
ঘটনার ঘণ্টখানেকের মধ্যে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতা রউফ হাসানের বরাতে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই অস্ত্রধারীর একজন ঘটলাস্থলে নিহত হয়েছেন। আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে পুলিশকে দেওয়া এক ভিডিও বিবৃতিতে অভিযুক্ত অস্ত্রধারী বলেন, ‘ইমরান খান জনগণকে বিভ্রান্ত করছিলেন। আমি এসব সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আমি তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। শুধু তাকেই, তিনি ছাড়া আর কাউকে নয়। আমার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না।’ আটক ব্যক্তিকে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী মনে হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইমরান খানকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মোট সাত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছে মুয়াজ্জাম নওয়াজ নামের এক ব্যক্তি। পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ চৌধুরী রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ইমরান খানসহ পিটিআইয়ের আরও তিন নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন, পিটিআইয়ের নেতা ও পাকিস্তানের পার্লমেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য ফায়সাল, ফায়সাল জাভেদ ও আহমেদ চাট্ট। তাদের সবার অবস্থা স্থিতিশীল।’ নিহত ব্যক্তি পিটিআইয়ের কর্মী বলে দাবি করেছেন ফুয়াদ চৌধুরী।
সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ







