সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তবে সংঘর্ষে দলের একজন কর্মী নিহতের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এলেও তার মৃত্যু সংঘর্ষে হয়নি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও পুলিশ।
সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ‘আজমল হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী কি না সেটি আমরা এখনও নিশ্চিত করতে পারিনি।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ‘যে মারা গেছে তার চাচা আতিকুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই আজমল হোসেনও আওয়ামী লীগের কর্মী হবে সম্ভবত। তবে আমি নিশ্চিত নই।’
তিনি বলেন, ‘আজমল হোসেন সম্মেলনে এসেছিলেন। তবে তিনি ইটপাটকেলের আঘাতে মারা যাননি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল বলে জেনেছি।’
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আজমল নামের একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন।’ আজমল হোসেন উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে।
উপজেলার বিএডিসি মাঠে সোমবার (নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সম্মেলন শুরু হয়। বেলা পৌনে ১টায় মঞ্চে আসেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ও কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুস সামাদ ডন। তাদের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা আক্তার খানমসহ অন্যরা।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠের উত্তর গেট দিয়ে সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়ার নেতৃত্বে তার সমর্থকদের মিছিল প্রবেশ করে। মিছিলটি মঞ্চের কাছাকাছি আসতে থাকে। মঞ্চের আশপাশে থাকা নেতাকর্মীরা এ সময় মিছিলকারীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। তখন দুই পক্ষে ধাক্কাধাক্কি লাগে। চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
মঞ্চ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে একপক্ষ। এ সময় মঞ্চে থাকা নেতারা চেয়ার মাথায় উঠিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।
সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ








