কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোল ব্যবধানে জয় তুলে নিলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা হলো না ক্যামেরুনের। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সার্বিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ায় ব্রাজিলের সঙ্গে পরের রাউন্ডে উঠেছে সুইজারল্যান্ড।
ক্যামেরুনের কাছে হারলেও প্রথম দুই ম্যাচ জেতার কারণে জি-গ্রুপে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে ব্রাজিল। দুইয়ে থাকা সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও ৬। কিন্তু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে রইল ক্যামেরুন। আর তলানিতে অবস্থান সার্বিয়ার।
শুক্রবার দিবাগত রাতে লুসাইলে ক্যামেরুনের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনে বুড়ো দানি আলভেসের নেতৃত্বে তরুণ একটি দল মাঠে নামিয়েছিলেন তিনি। মাঠে নেমেই ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন ৩৯ বছর বয়সি আলভেস। তবে উপলক্ষ্যটা রাঙাতে পারেননি তিনি। মার্তিনেল্লি, রদ্রিগো, আন্তনি, জেসুসরা আক্রমণের ঝড় তুলেও দলকে গোল এনে দিতে পারেননি। উলটো শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে আসরে প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে তিতের দল। যোগ করা সময়ে ভিনসেন্ট আবুবকরের গোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে ২০ বছরের জয়খরা কাটালেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এড়াতে পারেনি ক্যামেরুন।

তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েই বিদায় নিতে হলো আফ্রিকার অদম্য সিংহদের। তবে আফ্রিকার প্রথম দল হিসাবে বিশ্বকাপে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারানোর কীর্তিতে মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরছে রিগোবার্ট সংয়ের দল। গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে লাল কার্ড দেখলেও আবুবকরের মুখে ছিল চওড়া হাসি।
রাতের অন্য ম্যাচে ৩-২ গোলে সার্বিয়াকে হারিয়ে সুইজারল্যান্ড ‘জি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট রাউন্ডে গেল। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। আর ৫ ডিসেম্বরের নকআউটে ব্রাজিল প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়াকে।
ম্যাচের আগে দোহার মেট্রোজুড়ে চারধারে শুধু হলুদ আর হলুদ। আর ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে হলুদ-নীল জার্সির ছড়াছড়ি। লুসেইল স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে সর্বত্র একটা উৎসব বা কার্নিভালের উচ্ছাস। সমর্থকরা সমস্বরে গান গাইছেন। গ্যালারিতে আনন্দ সুর। কিন্তু মাঠে যে একটাই অভাব-গোল নেই! ব্রাজিল সেই অভাবটা মেটাতে পারলো না। কিন্তু ম্যাচের শেষদিকে গোল করে পুরো বিশ্বকাপকে চমকে দিয়ে ক্যামেরুন জিতে নিলো এই ম্যাচ।
শক্তিমান ব্রাজিলকে হারালো মূলত আলোচনার বাইরে থাকা ক্যামেরুন।
পুরো ম্যাচের ৬৫ শতাংশ সময় নিজেদের কাছে বল রাখতে পেরেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। আর অনটর্গেট-অফটার্গেট মিলিয়ে শট নিয়েছে মোট ২৮টি। কিন্তু গোল পায়নি।
এদিকে, বল দখলে পাত্তাই পায়নি ক্যামেরুন। পুরো ম্যাচের কেবল ৩৫ শতাংশ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল রাখতে পেরেছে দলটির ফুটবলাররা। আর ব্রাজিলের গোলবারে মোট শট নিতে পেরেছে দশটি।







