আজ সারাটা দিন ঢাকা সহ সারাদেশ এক অন্নরকম উৎসবের মধ্যে ছিলো। বাংলাদেশের এক নতুন বিজয়। ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলের জাগরণ। নানা আয়োজন ছিলো কিন্তু শেষ দিকের আয়োজন নিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। সেটা কি?

বাফুফে ভবনে পৌছানোর পর বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  চেয়ারে বসা বাফুফের চেয়ারম্যান ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী সহ আরো বেশ কয়েকজন। কিন্তু পিছনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা এবং কোচ গোলাম রব্বানী ।

দর্শক এবং ভক্তদের নিন্দার ঝড় বইছে এই ছবি নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে কি তাদের বসার জায়গা হলো না?

একজন প্রবাসী ফেসবুকে সংবাদ সম্মেলনের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন-

যারা নারী ফুটবলারদের এই বিজয়ের জন্য বিশেষ একজন কে বাহবা দিয়ে মরে যাচ্ছেন- তারা এই নারী ফুটবলার ও অধিনায়ক কে চেয়ারে বসতে দেবার মতো পরিবেশই তৈরী করতে পারেননি।
নারী বলে যারা চেয়ারে বসবার জায়গাটাও দিতে পারেননি- আর তারাই নারী মুক্তির অগ্রযাতার সব কৃতিত্ব নিচ্ছেন- হায়রে সোনার বাংলা, হায়রে পিতার স্বপ্ন – হায়রে নারী!
“বাফুফে সংবাদ সম্মেলন, কেন বসার জায়গা হলো না কোচ এবং অধিনায়কের”

ছবিঃ ফেসবুক

এছাড়াও একজন ভক্ত লিখেছেন-
সাফজয়ী অধিনায়ক সাবিনা ও কোচ রাব্বানী অসহায়ের মতো পেছনে দাঁড়িয়ে। সালাহউদ্দীন-আলাউদ্দিনের কাছ থেকে এরচেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না?
আরেকজন দর্শক লিখেছেন-
সারাদিনের উচ্ছ্বাস এটা দেখার পর ঘিন ধরে গেল।
বিজয়ী দলের ক্যাপ্টেন কোচ প্রেসব্রিফিংয়ে পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে বসে আছে মেসি রোনালদো
🙄
“বাফুফে সংবাদ সম্মেলন, কেন বসার জায়গা হলো না কোচ এবং অধিনায়কের”

ছবিঃ ফেসবুক

সত্যি তো তাই সারা বিশ্বের খেলার সংবাদসম্মেলনে আগে কোচ এবং ক্যাপ্টেনকে প্রাধান্য দেয়া হয়। কিন্তু এতো জমকালো আয়োজনের পর এরকম ভুল কেন?
শুধু তাই নয় একটি গণমাধ্যমে “ছাদখোলা বাসে কোথায় সাফল্যের রূপকার কোচ ছোটনের ছবি?” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় যেখানে বলা হয় এই জয়ের রুপকারর যিনি একদম বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে এক সুঁতোয় দলটাকে গেথে রেখেছেন সেই কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন । তাকে কেন সেইভাবে তুলে ধরা হলো না। তাকে কেন তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া হলো না।
এশিয়া জয় করে এলে ফুটবলার-কোচদের মঞ্চে জায়গা হবেতো? কারণ, যাদের কারণে এই সংবাদ সম্মেলন তারাই ছিলেন আড়ালে। সালাউদ্দিন নেপাল যাননি, যাননি বিমানবন্দর কারণ যাতে মেয়েরা ঠিক লাইম লাইট যেন পায়। কিন্তু নিজেদের ডেরায়-ইতো মেয়েরা ছিল আড়ালে। এই দায় কার, এই ভুল কিভাবে হলো?
এখানেও কি তাহলে পদ,ক্ষমতা দম্ভের সূর, এভাবে কিভাবে দূর করবে বৈষম্য?
এই প্রশ্ন আমাদের, এই প্রশ্ন জাতির সবার। তবুও ভুল শুধরে আমরা চাই ফুটবলের এই জোয়ার অব্যাহত থাকুক, খেলোয়াররা সঠিক পারিশ্রমিক পাক, যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হোক।