চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে সম্প্রতি যেসব আলোচনা ও সমালোচনা ছড়িয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো জরুরি।
ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। এই হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে, একে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হলে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে — যত দ্রুত সম্ভব তাদের কাছ থেকে শিখে নেওয়া, যাতে আগামী প্রজন্ম বিশ্ববন্দরের দায়িত্ব নিতে পারে। এতে শুধু দক্ষতা নয়, কর্মসংস্থানও বাড়বে।”
প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন, যেসব দেশ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে, তাদের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তা কখনোই হুমকির মুখে পড়েনি। “বন্দরের উন্নয়নে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এই অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানাই,” বলেন তিনি।
করিডোর নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব
মিয়ানমারকে করিডোর দেওয়া হয়েছে— এই অভিযোগকেও অমূলক ও গুজব বলে অভিহিত করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “জাতিসংঘ মহাসচিব রাখাইন রাজ্যে মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি ত্রাণ চ্যানেলের প্রস্তাব করেছিলেন, যা এখনো প্রস্তাবনার স্তরে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো করিডোর অনুমোদন দেয়নি।”
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অগ্রগতি
তিনি আরও জানান, সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সহায়তায় আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ‘প্রত্যাবাসনযোগ্য’ বলে তালিকাভুক্ত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উপকূলীয় উন্নয়ন এবং শিল্প সম্ভাবনা
বন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পাঞ্চল ও কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ড. ইউনূস। “কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে। সামুদ্রিক মাছ চাষ, আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্প এই অঞ্চলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে,” বলেন তিনি।
বক্তৃতার শেষভাগে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অপপ্রচারে কান না দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বন্দর ও করিডোর নিয়ে গুজবের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।”










