Home Uncategorized পাখির মেলায় একদিন..

পাখির মেলায় একদিন..

467
0
ছবিঃ মোহাম্মদ মহসীন
আমরা কয়েকজন ভ্রমণ পাগল যখনই সুযোগ পেতাম সপরিবারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতাম। সেবার আমাদের ভ্রমণ সঙ্গি বাবুভাইয়ের উদ্যোগে তার শ্বশুরবাড়ী রায় গঞ্জ ভ্রমণের সুযোগ আমরা কাজে লাগাই।
রায়গঞ্জ থানার পাশেই বাড়িটি অবস্থিত। সুন্দর ও পরিপাটি করে সাজানো। বরাবরই আমাদের গ্রাম দেখতে ভাললাগে। শহুরে সন্তান তো তাই হয়তো। এই গ্রামের মানুষের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ। দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ি গ্রাম দেখতে। বাড়ীর পেছনে একটি ছোট্ট ডাকঘর এবং তার পাশেই একটি নদী, দেখতে সরু, দুপাশে উচুঁ পাড় আর গাছপালা, দেখতে চমৎকার লাগছে।
জানা গেল নদীর নাম ফুলঝুড়ি, পানি কম থাকায় এমন সরু দেখাচ্ছে, বর্ষায় এসব উচুঁ পাড় ডুবে যায়। সিদ্ধান্ত নিলাম নৌকা নিয়ে বেড়াবো, একে একে সবাই নৌকায় উঠে পড়লাম।
কি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, দুপাশে যব ও ভূট্টার ক্ষেত। মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলাম। আমাদের এই মুগ্ধতা ভালো লাগলো নৌকার মাঝির, তাই সে আমাদের পাখি দেখানোর প্রস্তাব দিলো এবং সঙ্গে সঙ্গে আমরা হৈ হৈ রবে সম্মতি জানালাম। নৌকা চলতে লাগলো, নদীর দুপাশের মনোরম দৃশ্য আরো সুন্দর হতে লাগলো।
অনেকদূর যাওয়ার পর আমরা স্তব্ধ হয়ে গেলাম, কারো মুখে কোন শব্দ নেই, সবাই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। এতো দেখি পাখিদের মেলা, কয়েকশত নানারকমের পাখি। মাছরাঙ্গা, পানকৌড়ি, সাদা বক, পাতিহাঁস সহ নানা জাতের নানা রংয়ের পাখি।
কেউ আমাদের মাথার উপর দিয়ে উড়ছে, কেউ বা দল বেঁধে খেলা করছে। অনেক মাছরাঙ্গা দেখা গেল বাঁশের মাথায় প্রহরীর মতো, মনে হয় পাহারা দিচ্ছে। আসলে এর আগে আমরা একসাথে এতো পাখি কখনো দেখিনি।
নদীর দুপাশের পাড়ে অসংখ্য গর্ত করে তারা তাদের বাসা বানিয়ে রেখেছে। আমাদের আসাতে তারা খুব বেশি খুশি হয়নি তা বোঝা যাচ্ছে। নয়ন ভরে দেখছি আর ক্যামেরাতে ক্লিক করছি। ক্লিকের শব্দে অনেক পাখি বিরক্ত হয়ে উড়ে গেলো। মাঝিও অবাক হয়ে বললো সবসময় এতো পাখি দেখা যায় না।
পাখি দেখা শেষে ভ্রমণ সঙ্গিনি সাইমুন ভাবীর হাতে বানানো আমভর্তা খেয়ে আরো তৃপ্তি পেলাম। প্রচন্ড রোদের তাপে শীতল হোতে ঝাপিয়ে পরলাম ফুলঝুড়ি নদীর বুকে। মন ভরে নদীর শীতল পানিতে গোসল করলাম সবাই।
ধুপছায়া সন্ধ্যায় শুকনো পাতা মাড়িয়ে বাড়ির পথ ধরলাম, মন পড়ে রইলো পাখিদের মেলায়।
লেখা ও ছবি – মোহাম্মদ মহসীন