পদ্মার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধার উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, বিআইডব্লিউটিসিসহ কয়েকটি সংস্থার ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজা। তা ছাড়া উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। রাত ৯টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রত্যয় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। জাহাজটি শিমুলিয়া থেকে রওনা হয়েছে; রাত ১০টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে ঘন কুয়াশায় চলতে না পারায় রজনীগন্ধা নোঙর করে রাখা হয় পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের কাছে। বুধবার সকালে জাহাজটি ডুবে যায়। নৌ-পুলিশ ফরিদপুর অঞ্চলের সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেছেন, ফেরিটি দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ঘাটে আসার পথে ডুবোচরে ধাক্কা লাগে। এতে তলা ফুটো হয়ে গেলে পানি ঢুকতে থাকে। সকাল ৮টার দিকে ৯টি ট্রাকসহ ফেরিটি ডুবে যায়। এ পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফেরির দ্বিতীয় ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ুন এখনও নিখোঁজ।

অবশ্য বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ বলছেন, নোঙর করে থাকা রজনীগন্ধাকে বালুবাহী বাল্কহেড ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে ফেরিটি ডুবে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে বাল্কহেডটি শনাক্ত করা যায়নি।

নিখোঁজ হুমায়ুন কবিরের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায়। তিনি বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের আরিচা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক ঘটনাস্থল থেকে বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, তাদের ডুবুরি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। সকাল ১০টার দিকে ফেরির নিখোঁজ ইঞ্জিন মাস্টারকে উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে ফেরির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তবে তীব্র শীতের কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ফেরি উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার আবার উদ্ধারকাজ শুরু করার কথা। বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দিয়ে ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় আনা হচ্ছে। শীত ও স্রোত উপেক্ষা করে উদ্ধারকাজ চালানো হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

এলাকাবাসী জানায়, ফেরিতে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিল যাদের প্রায় সবাই ফেরি ও ফেরির গাড়িগুলোয় কর্মরত ছিল। ফেরি ডুবতে শুরু করলে তারা দ্রুত নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাদের কেউ কেউ সাঁতরে তীরে ওঠে। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজন ট্রলার নিয়ে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় মাস্টার হুমায়ুন কবির ছাড়া আর কেউ নিখোঁজ আছেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ