নারায়ণগঞ্জের ত্রাস চার খুনের আসামি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ২০ বছর ধরে পলাতক থাকা জাকিরকে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

জাকিরের বিরুদ্ধে চারটি হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলা আছে। এ ছাড়া সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তার ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতে সেই সাজা কমে আট বছর হয়।

আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা।

তিনি জানান, ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার খুন হলে জাকির আত্মগোপনে চলে যান। ২০০৪ সালে অপারেশন ক্লিন হার্ট শুরু হলে জাকির দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান। এরপর দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডেই অবস্থান করেন। কয়েক বছর আগে ভারতে চলে আসেন। সেখানে থেকে কিছুদিন আগে ঢাকা ফিরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৮৯ সালে জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজে যোগদানের মাধ্যমে জাকির রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

র‌্যাব আরও জানায়, দেওভোগ এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন জাকির। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয় জাকিরের। একই বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মাথায় ফতুল্লার কাশীপুর বাংলাবাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দ্বিতীয় দফায় জাকিরের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়।

১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদ পেয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার গুলিতে নিহত হন। এ মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন জাকির। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালান।

সূত্রঃ কালবেলা