ফিলিস্তিনের গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-এর ৪৪টি জাহাজের মধ্যে সর্বশেষ জাহাজ ‘দ্য ম্যারিনেটকেও’ আটক করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
পোল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে ছয়জন আরোহী রয়েছেন। আল-জাজিরার খবর।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, দ্য ম্যারিনেটকে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে ফিলিস্তিনি উপকূলের কাছ থেকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জাহাজটি আটক করেছে।
লাইভস্ট্রিম ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনাদের জোরপূর্বক জাহাজটিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
এছাড়া, ফ্লোটিলার ৪৩ জাহাজ থেকে আটক প্রায় পাঁচ শতাধিক অধিকারকর্মীদের মুখের ওপর সন্ত্রাসী বলে কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
এর আগে ফ্লোটিলার ৪৩টি জাহাজ আটক করে দখলদার বাহিনী। সেখানে ৩৭ দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক অধিকারকর্মী আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
ইসরায়েলের কতৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অধিকারকর্মীদের ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি।
এদিকে, ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে অনেক দেশ।
প্রসঙ্গত, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এই নৌবহরে রয়েছে ৪৪টি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে প্রায় ৩৭ দেশের ৫০০ মানুষের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহর গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও নৌযান এই বহরে যুক্ত হয়। এছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও কিছু নৌযান ত্রাণ নিয়ে বহরে যুক্ত হয়।
এই নৌবহরের ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইসরায়েল। যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি তারা।










